মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২০ এপ্রিল ২০২১

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক ভার্চুয়াল সভা


প্রকাশন তারিখ : 2021-03-18

 
স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি) এর ১০ দিনব্যাপী গৃহীত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ১৮-০৩-২০২১ তারিখ বেলা ১১.০০ ঘটিকায় বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিএইচবিএফসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ আফজাল করিম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন বিএইচবিএফসি’র চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম উদ্দিন, এফসিএ, এফসিএমএ। বিশেষ অতিথি হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন বিএইচবিএফসি’র সম্মানিত পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ হুমায়ুন কবীর চৌধুরী এবং জনাব তপন কুমার ঘোষ। আরো সংযুক্ত ছিলেন বিএইচবিএফসি’র মহাব্যবস্থাপক, উপ-মহাব্যবস্থাপক, অফিসার কল্যাণ সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ ও সদর দফতরসহ মাঠ পর্যায়ের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম উদ্দিন বক্তব্যের শুরুতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি ১৫ আগষ্ট শাহাদতবরণকারী বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য এবং জাতীয় ৪ (চার) নেতাসহ মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বীরমুক্তিযোদ্ধাদের বিনম্রচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বঙ্গবন্ধুর আপোষহীন নেতৃত্বের গুণাবলী বিশ্লেষণ করেন। তিনি তৎকালীন পূর্ব বাংলার সাথে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের পরিসংখ্যানগত তথ্য বিখ্যাত জার্নালের রেফারেন্সসহ তুলে ধরেন । তিনি বলেন, বাঙালি জাতির মুক্তির সংগ্রাম এবং অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় ৪৬৮২ দিন অর্থাৎ প্রায় ১৩ বছর কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল বাংলার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করা, অন্যায়-অবিচার মুক্ত, ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত ও উন্নত সোনার বাংলা গড়ার। তিনি ছিলেন শোষিত বঞ্চিত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। তাই বাংলার মানুষ তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে । তাঁর দৃঢ় নেতৃত্বে বাঙালি জাতি নতুন ইতিহাস গড়তে সক্ষম হয়েছে। তাঁর আপোষহীন নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পেয়েছে একটি স্বাধীন ভূখন্ড, লাল সবুজের পতাকা। তিনি বলেন, বাঙালি ছিল তাঁর অহংকার। এ বাঙালিকে তিনি জাগিয়ে তুলেছেন রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক দক্ষতায়। জাতির শাণিত শিরায় অকুতোভয় সাহস ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তিনি হলেন জাগ্রত ইতিহাস একটি জাতির জন্মদাতা। একটি স্বাধীন জাতিসত্তার অপরিমেয় অহংকার বর্নিল ঐশ্বর্য। তাই বঙ্গবন্ধু বাঙালি একসূত্রে গাঁথা।
জাতির পিতা যে অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা- দারিদ্র মুক্ত ও উন্নত সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করেছে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত সকল কর্মসূচী বাস্তবায়নে আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহবান জানান এবং এ ধরণের একটি মহতী অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় বিএইচবিএফসি’র ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএইচবিএফসি’র সম্মানিত পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ হুমায়ুন কবীর চৌধুরী । তিনি তাঁর বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির জন্মলগ্নের কিছু বাস্তবতা, বঙ্গবন্ধুর দর্শন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দার্শনিক ভিত্তি এবং বঙ্গবন্ধু কেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলেন এবং বর্তমান বাস্তবতা কেমন- এই তিনটি বিষয় চমৎকারভাবে বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন সাম্যের বাংলাদেশ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এবং মানুষে মানুষে ভালোবাসার বাংলাদেশই হলো বঙ্গবন্ধুর মূল দর্শন। তাই সবাইকে বঙ্গবন্ধুর দর্শন বাস্তবায়নে কাজ করার আহবান জানান।
বিশেষ অতিথি সম্মানিত পরিচালক জনাব তপন কুমার ঘোষ তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা যে যেখানে আছি তা কেবল বাংলাদেশ স্বাধীন হবার কারণেই সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, কাজেই তাঁর প্রতি আমাদের ঋণ কখনও শেষ হবে না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সমার্থক। তাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করার আহবান জানান।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ আফজাল করিম আলোচনার শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৫ আগষ্ট শাহাদতবরণকারী বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল সদস্য এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি লাল সবুজের পতাকা ও পৃথিবীর মানচিত্রে পেয়েছি একটি স্বাধীন ভূখন্ড। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের স্বার্থকতা চমৎকারভাবে বিশ্লেষণ করেন। তিনি প্রিয় নেতার বিশালতাকে বর্ণনা করতে গিয়ে ফিদেল কাস্ত্রোর মহান উক্তি উদ্বৃত করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর ১০১তম জন্মদিন ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে সারা বিশ্বের বরেণ্য নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বার্তার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো বিশ্লেষণ করেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৪৭ সাল থেকেই স্বাধীন ও স্বতন্ত্র ভূখন্ড হিসেবে বাংলাদেশের স্বপ্ন বুকে লালন করেছেন মর্মে উল্লেখ করেন। তিনি তাঁর ৭ মার্চের কালজয়ী ভাষণের কথা উল্লেখ করে বলেন বাঙালি জাতি হাজার বছর ধরে এই ভাষণের অপেক্ষায় ছিলেন। এ জন্য তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। এ ভাষণের মাধ্যমে বাঙালি জাতির অন্তরের অন্তঃস্থলে গুমরে মরা স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন তিনি। যুগের দাবিকে তিনি দীপ্ত কণ্ঠে উচ্চারিত করে বাঙালি জাতিকে শৃঙ্খল ভাঙ্গার সাহস জুগিয়েছিলেন। সেই সাহসের কাছে তৎকালীন পাকিস্তানী বাহিনীর বন্দুক, কামান, হেলিকপ্টার গানবোট স্তব্দ করতে পারেনি। তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের ভূয়সী প্রসংশা করে বলেন সারা বিশ্ব যেখানে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বিঘ্ন ঘটেছিল সেখানে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী যুগান্তকারী পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশে জিডিপিসহ উন্নয়নের অন্যান্য সূচকের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা তুলে ধরেন।
মুজিব বর্ষে সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিএইচবিএফসি’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সে লক্ষ্যে তিনি যোগদানের পর থেকে ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। উক্ত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে গ্রাহক সেবার মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নত করা, শ্রেণীকৃত ঋণ হার কমানো, সুন্দর কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা, ঋণ বিতরণের টার্গেট শতভাগ অর্জন করা এবং মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে প্রবর্তিত জিরো ইক্যুইটি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা। তিনি বলেন অর্থনৈতিক মুক্তি বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা রেখে বিএইচবিএফসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে (Speed with Accuracy) দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।
ভার্চুয়াল সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএইচবিএফসি’র মহাব্যবস্থাপক জনাব অরুন কুমার চৌধুরী এবং জনাব মোঃ আতিকুল ইসলাম। এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন জোনাল ম্যানেজার ও উপ-মহাব্যবস্থাপক জনাব মোঃ খালেদুজ্জামান, উপ-মহাব্যবস্থাপক জনাব মোঃ খাইরুল ইসলাম, সহকারী মহাব্যবস্থাপক জনাব আনন্দ কুমার ঘোষ, শাখা ম্যানেজার ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক জনাব মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, অফিসার কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব জনাব মোঃ মাহফুজুর রহমান, বিএইচবিএফসি’র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি জনাব তারেক ইমতিয়াজ খান এবং বঙ্গমাতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ আবু সাঈদ। সঞ্চালক হিসেবে সভাটি পরিচালনা করেন বিএইচবিএফসি’র সহকারী মহাব্যবস্থাপক জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম ও সিনিয়র অফিসার ফাইজা নোশিন।

Share with :

Facebook Facebook