মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১১ নভেম্বর ২০১৫

গ্রামীণ আবাসন প্রকল্প

 

 

 

 

গ্রামীণ আবাসন প্রকল্প : আমার একটি স্বপ্ন

           ---  ড. মো. নূরুল আলম তালুকদার

 

 

ব্যাংকিং পেশায় দীর্ঘ কর্মজীবন অতিবাহিত করে ২০১১ সালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনে যোগদান করি। যোগদানের পর দ্রুত প্রতিষ্ঠানটির সমস্যা ও সম্ভাবনার ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করে যথাযোগ্য সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করি। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা ও সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে সর্বক্ষেত্রে বিএইচবিএফসি‘র উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নতুন গতি লাভ করে। গত চার বছরে কর্পোরেশনের গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধিকল্পে ঋণের আবেদনপত্র দ্রুততার সাথে নিস্পত্তি করা হচ্ছে। গ্রাহক হয়রানি বন্ধে কর্পোরেশনের প্রতিটি অফিসে One-Stop-Service Center ও Help-Desk চালু করা হয়েছে। ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ায় কর্পোরেশনের মাঠ পর্যায়ের অফিস পর্যন্ত কম্পিউটারাইজেশন ও Electronic Database System গড়ে তোলা হয়েছে। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, সেবা ও পন্য জনগণের দোড়গোড়ায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। ইতোমধ্যে গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এবং সিরাজগঞ্জে নতুন অফিস খোলা হয়। কর্মীদের পেশাদারিত্বের মানোন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলসহ নানাবিধ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

 

কর্পোরেশনের ঋণ কার্যক্রম শুরু থেকেই প্রধানতঃ রাজধানী, বিভাগীয় ও জেলা শহরে সীমাবদ্ধ ছিল। মফস্বল ও পল্লী এলাকার মানুষের জন্য গৃহ ঋণের সুবিধা ছিল অতি সামান্য। বিএইচবিএফসি‘র ঋণ সেবা গ্রামমুখী করার লক্ষ্যে নানাবিধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এর ফলে চার বছরে শহর ও গ্রামাঞ্চলে ঋণ বিতরণের ব্যবধানের অনুপাত ৭৪:২৬ থেকে ৫২:৪৮-এ উন্নীত হয়। গ্রামীণ জনপদে ভূমি সাশ্রয়ী ঊর্ধ্বমুখী কমিউনিটি আবাসন গড়ে তোলা আমার দীর্ঘদিনের লালিত একটি স্বপ্ন। সম্প্রতি আইডিবি কর্তৃক ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থ সহায়তার জন্য গৃহীত ‘‘Rural Housing Project of Bangladesh’’–প্রকল্পটি  দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি অংশ।

 

কর্পোরেশনে যোগদানের পর ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, জার্মান ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত Affordable Housing  ও  Housing Finance বিষয়ক বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে যোগদানের সুযোগ হয়। এসব সেমিনার থেকে লব্ধ জ্ঞান ও ধারণা অনুযায়ী বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগণের জন্য ব্যয় ও ভূমি সাশ্রয়ী কমিউনিটি আবাসনের একটি মডেল প্রণয়নের চিন্তা করি। এর সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ‘স্বল্প সুদে গ্রামীণ এলাকায় ঋণ’ প্রদানের নির্দেশনা পাথেয় হিসেবে যুক্ত হয়।

 

উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখ গোপালগঞ্জে কর্পোরেশনের রিজিওনাল অফিস উদ্বোধনকালে তিনি উক্ত পরামর্শ দেন।  উপস্থিত মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিতও এ বিষয়ে  বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্ভাবনী ধারনা প্রকল্প তৈরীতে আমাকে দারুনভাবে উৎসাহিত করে। বাংলাদেশের নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম আবাসনের প্রয়োজন পূরণে এবং কৃষি জমি রক্ষার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে ।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের হাউজিং কনসালটেন্ট এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের সাথে মতবিনিময়কালে বাংলাদেশের স্বল্প-আয়ের মানুষের জন্য সরকারের নানা আয়বর্ধন কর্মসূচীর প্রতি বিশ্বব্যাংকের ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করি। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহে বরাবরই বিশ্বব্যাংকের আর্থিক ও কারিগরী সহায়তাও পেয়ে থাকে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পল্লী এলাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের সামর্থ ও সার্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ১০০০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ একটি প্রিলিমিনারি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোপোজাল (পিডিপিপি) তৈরী করা হয়। অতঃপর প্রকল্পটিতে অর্থায়নের জন্য এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকে  প্রেরণ করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক বা আইএফসি কর্তৃক প্রকল্পটিতে অর্থায়ন বেশি দূর এগোয়নি । 

 

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আমার চিন্তা ও উদ্যোগ থেমে থাকেনি। এ সময় পরিকল্পনা বিভাগের তৎকালীন সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম-এর পরামর্শ অনুযায়ী প্রকল্পটি সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি)-তে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে প্রস্তাবটি কিছুটা সংশোধন করে প্রথম পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের নিকট একটি পাইলট প্রকল্প জমা দেয়া হয়। এ প্রকল্প মতে প্রথমে দেশের ২২টি উপজেলায় প্রতিটি ৪ তলা বিশিষ্ট ৩৭৫টি ভবনে স্বল্প আয়তনের মোট ৩০০০টি হাউজিং ইউনিট নির্মাণের রূপরেখা তুলে ধরে তা  পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়। প্রকল্প প্রস্তাবটি সরকার কর্তৃক যাচাই বাছাইয়ের পর ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-তে ‘বাংলাদেশে গ্রামীণ গৃহায়নে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা’ প্রকল্প নামে এটি একটি বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রস্তাব হিসেবে তালিকাভুক্ত হয় (ক্রমিক নং-১৪১)।

 

এডিপি-তে প্রকল্পটি তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং কর্পোরেশনের মধ্যে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম. আসলাম আলম সভাপতিত্ব করেন। এ সভা